চলনবিলের বুকে কয়েক শতাব্দীর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের স্মারক ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনের স্মরণে নির্মিত প্রাচীন এই স্থাপনা
চলনবিলের বুকে সাড়ে তিনশ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী বারুহাস ইমামবাড়া
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৫১ বার পড়া হয়েছে
চলনবিলের বিস্তীর্ণ জলরাশির বুকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইমামবাড়া। প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের পুরোনো এই স্থাপনাটি স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে হযরত ইমাম হাসান (রা.) ও হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর স্মরণে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এখানে ইমামবাড়া নির্মাণ করা হয়। ইমামবাড়াটিতে নামাজ আদায়, মিলাদ মাহফিল ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হতো।
জানা যায়, একসময় চলনবিলের আশপাশের বিভিন্ন দ্বীপ ও জনপদ থেকে ইমাম ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা এখানে এসে ধর্মীয় আলোচনা করতেন। ফলে এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের প্রাচীন ইমামবাড়াগুলোর ইতিহাসের সঙ্গে বারুহাস ইমামবাড়ারও একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনি দালানকে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ইমামবাড়াগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, মোগল আমলে শাহ সুজার নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মীর মুরাদ ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে হোসেনি দালান নির্মাণ করেন। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইমামবাড়া নির্মাণের ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠে।
চলনবিলের চরমধ্যান্ন দ্বীপেও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এই ইমামবাড়া নির্মিত হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। সময়ের পরিক্রমায় চরমধ্যান্ন দ্বীপের নাম পরিবর্তন হয়ে ‘বারুহাস’ হয়। এরপর স্থাপনাটিও ‘বারুহাস ইমামবাড়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
কয়েক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও বারুহাস ইমামবাড়া এখনো স্থানীয় মানুষের কাছে ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে আছে। চলনবিলের পরিবর্তনশীল পরিবেশের মধ্যেও স্থাপনাটি বহন করে চলেছে অতীতের নানা স্মৃতি ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য।















