শাহজাদপুরে ৪ কোটি টাকার সেতুতে সংযোগ সড়ক নেই: কাঠের সাঁকো ভরসা ২০ হাজার মানুষের
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ৬৬৬ বার পড়া হয়েছে
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নে কোনাই নদীর ওপর নির্মিত প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ের ৬০ মিটার দীর্ঘ কংক্রিট সেতুটি এখনো ব্যবহারের অনুপযোগী। সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে। এতে খুকনি, জালালপুর ও কৈজুরি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২১-২২ অর্থবছরে এলজিইডির অর্থায়নে ‘সিরাজগঞ্জ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় খুকনি বাজার–কাইজ্যা বিশ্বনাথপুর সড়কে নতুন ঘাটাবাড়ি এলাকার কোনাই নদীর ওপর ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৭ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নানা জটিলতা কাটিয়ে প্রায় ৪ বছর পর ৮ মাস আগে সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই এলাকা ছেড়ে যায়।
সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও প্রতিকার না পেয়ে নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুর দুই পাশে ১৫–২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কাঠ–বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। তবে এসব সাঁকো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সামান্য বৃষ্টিতেই পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ফলে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও প্রবীণদের জন্য প্রতিদিনই সেতু পারাপার দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি তৈরির পর তারা ভেবেছিলেন বহু বছরের ভোগান্তির অবসান হবে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না হওয়ায় উল্টো ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ভ্যান-রিকশা বা মোটরসাইকেল চলাচল করতে না পারায় ধান-চাল, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য মাথায় করে নদী পার হতে হচ্ছে। এতে ব্যয় ও শ্রম দুটোই বেড়েছে। অসুস্থ, গর্ভবতী নারী বা জরুরি রোগীদেরও বাঁশের চাঙারি বা কাঁধে করে নদী পার করাতে হচ্ছে।
ভ্যানচালক মোজা সরকার বলেন, “মালামাল আনতে গেলে মাথায় করে সেতু পার হতে হয়। ভ্যান পার করতে ২–৩ জন মানুষের সাহায্য লাগে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে—এটা খুব কষ্টকর।”
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ আলী, আব্দুস সালামসহ অনেকে জানান, খুকনি, জালালপুর ও কৈজুরি ইউনিয়নের মোট ১৪টি গ্রাম এ সেতু নির্ভরশীল। সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগী—সবার ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
শাহজাদপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এ এইচ এম কামরুল হাসান রনি বলেন, “ঠিকাদারকে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার শেষ কিস্তির বিলও স্থগিত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংযোগস্থলে মাটি ভরাট কাজ শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদারের বিল বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত এ সেতুটি পুরোপুরি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটবে।














