সংবাদ শিরোনাম ::
উলিপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা কৃষি কাজে কোনো লজ্জা নেই: কৃষিমন্ত্রী রায়গঞ্জে বন্ধের মুখে চালকল, ব্যাহত হতে পারে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ টাকার অভাবে তিনবার ভেঙেছে বিয়ে, অবশেষে ধুমধাম করে বিয়ে হলো সুচিত্রার নান্দাইলে মক্তবের ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে ৩৫ বিজিবির অভিযানে ১৮৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার কামারখন্দে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে জামায়াত নেতাকে জরিমানা সাপাহারে মাদ্রাসাছাত্রীকে নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার চলনবিলের বুকে সাড়ে তিনশ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী বারুহাস ইমামবাড়া সলঙ্গায় হত্যা মামলায় বাবা-ছেলে গ্রেফতার

টাকার অভাবে তিনবার ভেঙেছে বিয়ে, অবশেষে ধুমধাম করে বিয়ে হলো সুচিত্রার

কামারখন্দ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

অভাবের কারণে তিনবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অবশেষে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানী দাসের। মানবিক সহায়তায় সংগৃহীত অর্থে শুক্রবার উল্লাপাড়ার পলাশ কুমার ভৌমিকের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

সুচিত্রা রানী দাস জামতৈল সূত্রধরপাড়ার সুজন চন্দ্র দাস ও কামনা রানী দাস দম্পতির মেয়ে। চার সদস্যের পরিবারে তার বাবা স্থানীয় একটি সেলুনে কাজ করেন। মা আগে চালকলে কাজ করলেও অসুস্থতার কারণে বর্তমানে কর্মহীন। পরিবারের সীমিত আয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অর্থের সংকটের কারণে সুচিত্রার আগে তিনবার বিয়ে ঠিক হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে ভেঙে যায়। বিষয়টি মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত মামুন বিশ্বাসের নজরে এলে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি তুলে ধরেন। পোস্টটি দেখে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এতে মোট ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়।

সংগৃহীত অর্থের সহায়তায় শুক্রবার ধুমধাম করে সুচিত্রার বিয়ের আয়োজন করা হয়। উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের ঝড়ু লাল চন্দ্র ভৌমিক ও মমতা রানী ভৌমিক দম্পতির ছেলে পলাশ কুমার ভৌমিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

সুচিত্রার মা কামনা রানী দাস বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি এখন আর কাজ করতে পারেন না। তার স্বামীও আগের মতো কাজ করতে পারছেন না। ফলে সংসারে চরম আর্থিক সংকট চলছে। অর্থের অভাবে মেয়ের তিনবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামুন বিশ্বাস পাশে না দাঁড়ালে এবারও হয়তো বিয়ে হতো না।

সুচিত্রা রানী দাস বলেন, আগে তিনবার বিয়ে ঠিক হলেও টাকার অভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। এবারও বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি ও তার পরিবার। তবে মামুন বিশ্বাস পাশে দাঁড়ানোয় শেষ পর্যন্ত স্বপ্নের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এত বড় আয়োজন করে তার বিয়ে হবে, তা কখনো ভাবেননি বলেও জানান তিনি।

মামুন বিশ্বাস বলেন, সুচিত্রার বিষয়টি জানার পর তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন। দেশ-বিদেশের মানুষের সহযোগিতায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়। বিয়ের প্রয়োজনীয় খরচ সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট ২৩ হাজার টাকা সুচিত্রার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই সহযোগিতার কৃতিত্ব তার একার নয়; দেশ-বিদেশ থেকে যারা মানবিকভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, কৃতিত্ব তাদের। এভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে সহায়তা সংগ্রহ করে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক অসহায় মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টাকার অভাবে তিনবার ভেঙেছে বিয়ে, অবশেষে ধুমধাম করে বিয়ে হলো সুচিত্রার

আপডেট সময় : ০২:২৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

অভাবের কারণে তিনবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অবশেষে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানী দাসের। মানবিক সহায়তায় সংগৃহীত অর্থে শুক্রবার উল্লাপাড়ার পলাশ কুমার ভৌমিকের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

সুচিত্রা রানী দাস জামতৈল সূত্রধরপাড়ার সুজন চন্দ্র দাস ও কামনা রানী দাস দম্পতির মেয়ে। চার সদস্যের পরিবারে তার বাবা স্থানীয় একটি সেলুনে কাজ করেন। মা আগে চালকলে কাজ করলেও অসুস্থতার কারণে বর্তমানে কর্মহীন। পরিবারের সীমিত আয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অর্থের সংকটের কারণে সুচিত্রার আগে তিনবার বিয়ে ঠিক হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে ভেঙে যায়। বিষয়টি মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত মামুন বিশ্বাসের নজরে এলে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিষয়টি তুলে ধরেন। পোস্টটি দেখে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এতে মোট ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়।

সংগৃহীত অর্থের সহায়তায় শুক্রবার ধুমধাম করে সুচিত্রার বিয়ের আয়োজন করা হয়। উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের ঝড়ু লাল চন্দ্র ভৌমিক ও মমতা রানী ভৌমিক দম্পতির ছেলে পলাশ কুমার ভৌমিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

সুচিত্রার মা কামনা রানী দাস বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি এখন আর কাজ করতে পারেন না। তার স্বামীও আগের মতো কাজ করতে পারছেন না। ফলে সংসারে চরম আর্থিক সংকট চলছে। অর্থের অভাবে মেয়ের তিনবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামুন বিশ্বাস পাশে না দাঁড়ালে এবারও হয়তো বিয়ে হতো না।

সুচিত্রা রানী দাস বলেন, আগে তিনবার বিয়ে ঠিক হলেও টাকার অভাবে তা সম্পন্ন হয়নি। এবারও বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি ও তার পরিবার। তবে মামুন বিশ্বাস পাশে দাঁড়ানোয় শেষ পর্যন্ত স্বপ্নের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এত বড় আয়োজন করে তার বিয়ে হবে, তা কখনো ভাবেননি বলেও জানান তিনি।

মামুন বিশ্বাস বলেন, সুচিত্রার বিষয়টি জানার পর তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন। দেশ-বিদেশের মানুষের সহযোগিতায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়। বিয়ের প্রয়োজনীয় খরচ সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট ২৩ হাজার টাকা সুচিত্রার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই সহযোগিতার কৃতিত্ব তার একার নয়; দেশ-বিদেশ থেকে যারা মানবিকভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, কৃতিত্ব তাদের। এভাবে ফেসবুকের মাধ্যমে সহায়তা সংগ্রহ করে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক অসহায় মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।