উৎপাদন ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতিতে চাপে মিল মালিকরা, কর্মসংস্থান নিয়েও শঙ্কা
রায়গঞ্জে বন্ধের মুখে চালকল, ব্যাহত হতে পারে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৬৫ বার পড়া হয়েছে
উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজার পরিস্থিতিসহ নানা সংকটে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের চালকলগুলো টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একের পর এক চালকল বন্ধ হয়ে গেলে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি কয়েক শ শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মিল মালিক ও শ্রমিকরা।
রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি চালকল ধান প্রক্রিয়াজাত করে চাল উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। এসব মিলকে ঘিরে ধান-চাল ব্যবসা, পরিবহন, শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, চালকলগুলো সচল থাকলে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের পাশাপাশি সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও সহজ হয়।
স্থানীয়ভাবে লুৎফা, ওমর, আনোয়ারা, মামাভাগ্নে সামি ও সৌরভ সেমিঅটো চালকলসহ বিভিন্ন মিল চালু রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, বাজারে চালের দামের ওঠানামা এবং ব্যবসায়িক নানা জটিলতার কারণে মিল পরিচালনা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি মিল মালিকদের।
মিল মালিক ও শ্রমিকদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কোনো কোনো চালকল উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এতে শুধু মিল-সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরাই নয়, ধান ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, চালের আড়তদারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশার মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
তারা চালকলগুলো সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সক্ষম ও মানসম্মত স্থানীয় চালকলগুলোকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
চান্দাইকোনা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস বলেন, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে স্থানীয় চালকলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নির্ধারিত মান বজায় রেখে সময়মতো চাল সরবরাহ করা হলে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়। চালকল মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনো মিলের বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সচল ও সক্ষম মিলগুলোকে কাজে লাগিয়ে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। লাইসেন্স, মিল সার্ভে, বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্যতা এবং চালের মান—সবকিছু যাচাই করেই বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালকলগুলো সচল রাখতে উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এতে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও ধরে রাখা সম্ভব হবে।















