সংবাদ শিরোনাম ::
সিরাজগঞ্জে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, জরিমানা ৩৫ হাজার টাকা নাহার অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ সিরাজগঞ্জে তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, আদালতে জামিন সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীতে ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে : সাবেক সচিব অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি তৈরি, রিভার ফুডসকে জরিমানা রায়গঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ শাহজাদপুরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবার পেল ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রতিটি পরিবার রায়গঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জুয়েল রায়গঞ্জে দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানালেন জুয়েল

নাহার অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫৪১ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারি খাসজমি দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু ও তার অধীনস্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমি ভরাট বন্ধ এবং চাষাবাদের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন ৮০ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার।

 

গত ২৬ অক্টোবর ইউএনও বরাবর দেওয়া আবেদনে আমজাদ হোসেন উল্লেখ করেন, সলঙ্গা থানার দাদপুর মৌজায় জে.এল. নম্বর ১৬৩, দাগ নম্বর ৫৪৩/১৩২১-এর ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৬৫ শতক জমি তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য পত্তন (লিজ) নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য ওই জমি থেকে ২০ শতক অধিগ্রহণ করে সরকার। এ জন্য তাকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমিতে তিনি নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছিলেন।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু ও তার অধীনস্ত কর্মচারীরা প্রভাব খাটিয়ে ওই সরকারি খাসজমিতে জোরপূর্বক মাটি ভরাট শুরু করেছেন। এতে তার চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। ফসলি জমির ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাটি ভরাটে বাধা দিতে গেলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

 

তাই এ অবস্থায় সরেজমিন তদন্ত করে মাটি ভরাট বন্ধ, জমি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদের সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউএনওর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

 

অভিযোগের বিষয়ে নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু বলেন, ‘আমাদের চলাচলের জায়গা প্রয়োজন। তাই আমরা সরকারি জায়গায় মাটি ফেলেছি, শুধু ব্যবহার করার জন্য। আপনার বাড়ির সামনে যদি সরকারি জায়গা থাকে, আপনিও তো চলাচলের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আমরা কাউকে জোড় জুলুম করিনি।’

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘কেউ যদি জমি লিজ নিয়ে থাকে, তবে সে জমি ভরাট করতে পারবে। তবে, লিজ না নিয়ে সরকারি জমি ভরাট বা অন্য কিছু করার সুযোগ নাই।’

 

এ বিষয়ে দুই পক্ষকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘আমি দুই পক্ষকে ডেকে নিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে আপস হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’

 

তবে অভিযোগে উল্লিখিত জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি হলে সেটি নিয়ে দুই পক্ষের আপসের আইনগত ভিত্তি কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি জমির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব কার, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাহার অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারি খাসজমি দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু ও তার অধীনস্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমি ভরাট বন্ধ এবং চাষাবাদের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন ৮০ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার।

 

গত ২৬ অক্টোবর ইউএনও বরাবর দেওয়া আবেদনে আমজাদ হোসেন উল্লেখ করেন, সলঙ্গা থানার দাদপুর মৌজায় জে.এল. নম্বর ১৬৩, দাগ নম্বর ৫৪৩/১৩২১-এর ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৬৫ শতক জমি তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য পত্তন (লিজ) নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য ওই জমি থেকে ২০ শতক অধিগ্রহণ করে সরকার। এ জন্য তাকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমিতে তিনি নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছিলেন।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু ও তার অধীনস্ত কর্মচারীরা প্রভাব খাটিয়ে ওই সরকারি খাসজমিতে জোরপূর্বক মাটি ভরাট শুরু করেছেন। এতে তার চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। ফসলি জমির ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাটি ভরাটে বাধা দিতে গেলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

 

তাই এ অবস্থায় সরেজমিন তদন্ত করে মাটি ভরাট বন্ধ, জমি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদের সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউএনওর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

 

অভিযোগের বিষয়ে নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের জিয়াউস সামস সেতু বলেন, ‘আমাদের চলাচলের জায়গা প্রয়োজন। তাই আমরা সরকারি জায়গায় মাটি ফেলেছি, শুধু ব্যবহার করার জন্য। আপনার বাড়ির সামনে যদি সরকারি জায়গা থাকে, আপনিও তো চলাচলের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আমরা কাউকে জোড় জুলুম করিনি।’

 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘কেউ যদি জমি লিজ নিয়ে থাকে, তবে সে জমি ভরাট করতে পারবে। তবে, লিজ না নিয়ে সরকারি জমি ভরাট বা অন্য কিছু করার সুযোগ নাই।’

 

এ বিষয়ে দুই পক্ষকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘আমি দুই পক্ষকে ডেকে নিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে আপস হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’

 

তবে অভিযোগে উল্লিখিত জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি হলে সেটি নিয়ে দুই পক্ষের আপসের আইনগত ভিত্তি কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি জমির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব কার, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।