সিএস মানচিত্র অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ ও ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান
ফুলজোড় নদীর পুনর্জন্ম চান এলাকাবাসী, প্রবাহপথ পুনরুদ্ধার ও দূষণ বন্ধের দাবি
- আপডেট সময় : ০৪:২১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
শুধু নদী খনন নয়, ঐতিহাসিক প্রবাহপথ পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল ও দূষণ বন্ধ এবং নদীভাঙন রোধের মাধ্যমে ফুলজোড় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার এলাকাবাসী। একই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন মুন্ডুমালা মহাশ্মশানের জমি উদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাই এবং ২৬টি ভূমিহীন পরিবারের দীর্ঘ ৩০ বছরের আবাসন-সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোণায় মুন্ডুমালা মহাশ্মশান চত্বরে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। মথুরা সমাজকল্যাণ পরিষদের আয়োজনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশবাদী সংগঠন মুক্তজীবনের যৌথ অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বাপার সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ও মুক্তজীবনের সভাপতি দীপক কুমার করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাপার কেন্দ্রীয় নেতা ও বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মথুরা সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডা. চন্দন কুমার সরকার, মুক্তজীবনের সদস্য মো. আলীম তালুকদার, মুন্ডুমালা মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রী জীবন কৃষ্ণ কুন্ডু, শ্রী রতন কুমার কুন্ডু, সহসভাপতি শ্রী সঞ্জয় কুমার চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী সন্তোষ কুমার মহন্তসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দীপক কুমার কর ফুলজোড় নদী পুনরুদ্ধারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি আবেদনপত্র পাঠ করেন। এতে সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস মানচিত্র, পুরোনো ভূমি রেকর্ড এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে নদীর ঐতিহাসিক প্রবাহপথ চিহ্নিত করে তা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া মুন্ডুমালা মহাশ্মশানের প্রায় ৮০ শতাংশ জমি উদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ২৬টি ভূমিহীন পরিবারের বরাদ্দকৃত জমির অধিকার নিশ্চিত করা, কেশরখালি খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখনন এবং নদীতে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া ফুলজোড় নদী খননের আগে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা পরিচালনা, পরিবেশসম্মত উপায়ে নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং দূষণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন আয়োজকেরা। তাঁদের মতে, নদীর প্রকৃত প্রবাহপথ চিহ্নিত করে পরিকল্পিত পুনরুদ্ধার, দখল-দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগই পারে ফুলজোড় নদীকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে।
অনুষ্ঠানে মুক্তজীবনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম খোরশেদ আলম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মরহুমা মোমেনা খাতুনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।



















