সদরে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তের পরও ব্যবস্থা নেই ৫ শিক্ষকের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তের পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ জিন্নাহ। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৭ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরোধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বিরোধের জেরে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষকেরা ঠিকমতো পাঠদান করছেন না, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণের জন্য সহকারী শিক্ষকেরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার।
অভিযোগের তালিকায় থাকা পাঁচ শিক্ষক হলেন: ফারজানা ইয়াসমীন, আমিনা খাতুন সনি, মোছা. সুরাইয়া পারভীন, মর্জিনা পারভীন ও শামীমা জাহান। তাদের মধ্যে শামীমা জাহানকে আগেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর অভিযোগপত্র সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ বমি করে। এ সময় সহকারী শিক্ষক শামীমা জাহান প্রধান শিক্ষককে না জানিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঠে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে শামীমা জাহানের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুরশিদ জিন্নাহ আরও অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার জের ধরে গত ১৩ আগস্ট শামীমা জাহান ১০ থেকে ১৫ জন বহিরাগতকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। সেদিন প্রধান শিক্ষক এক আত্মীয়ের জানাজায় অংশ নিতে ছুটিতে ছিলেন। এ সময় একটি ফোন নম্বর থেকে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট উপজেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক তার অভিযোগে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে সহকারী শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এর আগে, প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অশালীন আচরণের অভিযোগ এনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন পাঁচ সহকারী শিক্ষিকা। ওই অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকলে তাকে সেবা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষিকা শামীমা জাহানের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ছাড়া, ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে বিদ্যালয়ের মাঠে এলোমেলোভাবে অবস্থান করার অভিযোগও রয়েছে। পরে শিক্ষিকাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন শামীমা জাহানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভড করেননি।























