সংবাদ শিরোনাম ::
সিরাজগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ দই সংরক্ষণ,প্রাণের ডিলারকে জরিমানা তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রায়গঞ্জের কোদলাদিগরে সুপার সিক্স ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত রায়গঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত প্রধান শিক্ষক-শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ, সবাইকে বদলির দাবি প্রত্যাশিত সিরাজগঞ্জের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংবর্ধনা পেলেন তিন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী রায়গঞ্জে ২৬ মণ নিষিদ্ধ পিরানহা জব্দ, জরিমানা দুই ব্যক্তিকে সিরাজগঞ্জে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, জরিমানা ৩৫ হাজার টাকা নাহার অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে মাটি ভরাটের অভিযোগ সিরাজগঞ্জে তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, আদালতে জামিন

প্রধান শিক্ষক-শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ, সবাইকে বদলির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫৪৪ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৬৫ নম্বর গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরোধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।

 

গত ৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই আবেদনে গ্রামবাসীর পক্ষে মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষর করেন। আবেদনে শিক্ষকদের পারস্পরিক বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

আবেদনে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বমি করাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ জিন্নাহর সঙ্গে সহকারী শিক্ষক শামীমা জাহানের বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান

শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তের ঘটনা ঘটে।

 

গ্রামবাসীর অভিযোগ, শিক্ষকদের এই বিরোধের প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর। শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

 

আবেদনে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের মধ্যে এমন বিরোধ ও হিংসাত্মক মনোভাব বিরাজ করলে বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা কঠিন। তাই শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করে নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এর আগে, প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, কুপ্রস্তাব ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ এনে পাঁচ সহকারী শিক্ষিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকও পাঁচ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলে গত ১৭ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

 

প্রধান শিক্ষকের দাবি, তদন্তে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষিকাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষক শামীমা জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

এভাবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পাঠদান স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি। সামনে জেলা পর্যায়ের মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ও এ বিষয়ে অবগত আছেন। আমরা বিদ্যালয়টিকে স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রধান শিক্ষক-শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ, সবাইকে বদলির দাবি

আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৬৫ নম্বর গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরোধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।

 

গত ৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া ওই আবেদনে গ্রামবাসীর পক্ষে মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষর করেন। আবেদনে শিক্ষকদের পারস্পরিক বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

আবেদনে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বমি করাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ জিন্নাহর সঙ্গে সহকারী শিক্ষক শামীমা জাহানের বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান

শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তের ঘটনা ঘটে।

 

গ্রামবাসীর অভিযোগ, শিক্ষকদের এই বিরোধের প্রভাব পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর। শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

 

আবেদনে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের মধ্যে এমন বিরোধ ও হিংসাত্মক মনোভাব বিরাজ করলে বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা কঠিন। তাই শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করে নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এর আগে, প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, কুপ্রস্তাব ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ এনে পাঁচ সহকারী শিক্ষিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকও পাঁচ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলে গত ১৭ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

 

প্রধান শিক্ষকের দাবি, তদন্তে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষিকাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষক শামীমা জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

এভাবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বিরোধের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পাঠদান স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি। সামনে জেলা পর্যায়ের মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ও এ বিষয়ে অবগত আছেন। আমরা বিদ্যালয়টিকে স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছি।