সংবাদ শিরোনাম ::
কামারখন্দের আতিয়াকে রাজকীয় আয়োজনে বিয়ে দিলেন মামুন বিশ্বাস বিএনপিকে হুমকি-ধমকি দিয়ে লাভ হবে না: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তেঁতুলিয়া ইউপি নির্বাচন ঘিরে গণসংযোগে যুবদল নেতা ইকবাল হাসান শাহ তাড়াশে ঈদের আগে বেড়েছে গরু চুরি, আতঙ্কে খামারি ও কৃষকরা পোরশায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান মে দিবস পালিত, শ্রমিক অধিকারে গুরুত্বারোপ হাসপাতাল চত্বরে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনেরা সাবেক এমপির গাড়িতে হামলার মামলায় আ.লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার তাড়াশে ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার তাড়াশে বজ্রপাতে মৃত্যু,পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও নুসরাত  তাড়াশে পুকুর সংস্কার করতে গিয়ে মিলল বিষ্ণু মূর্তি

এনায়েতপুর কাপড়ের হাটের সরকারি জমি দখল করে নির্মিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়

  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৬৫২ বার পড়া হয়েছে

এনায়েতপুর কাপড়ের হাটের সরকারি জমি দখল করে নির্মিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দ্বারা হাটের দুই তৃতীয়াংশ ভূমি দখল করে নির্মিত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য দীর্ঘদিন যাবত দাবি করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।

 

এ নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর বহু আবেদন নিবেদন করা হয়েছে এবং সর্বশেষ মঙ্গলবার আবেদন করেছেন এনায়েতপুর হাটের ইজারাদার আনিছুর রহমান।

 

জানা যায়, তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুর থানা সদরে ৩১.৩৮ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত এনায়েতপুর হাট। যমুনার চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি ও গবাদি পশু এবং কাপড় সহ তাঁত শিল্পের সকল উপকরণ এ হাটে বেচাকেনা হয়।

 

এখানে প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক হাটবার। এছাড়া রোববার ও বুধবার দেশের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাট বসে যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সহ ভারতের ক্রেতারাও আসতো।

 

তবে এই হাট ধ্বংস করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ভূমি দখল করে আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে এনায়েতপুর থানার সামনে হাটের প্রাণকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় নির্মান করা হয়। এছাড়া আ’লীগের প্রভাবশালী দলীয় নেতারা নামে বেনামে অবৈধ ভাবে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এতে হাটের পেরিফেরিভুক্ত ভূমির মধ্যে প্রায় ২১.৩৮ একর হাটের জায়গা অবৈধ ভাবে দখলে নেয় তারা। অনেকেই জাল দলিল সৃজন করে নিজেদের নামে জমি নামজারি করে নিয়েছে।

 

একারনে ঐতিহ্যবাহী এনায়েতপুর হাটের বেচা-বিক্রি, ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। হাটে ক্রেতা এবং বিক্রেতার সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে। ধ্বংসের পথে চলে হাটটি ।

 

এনায়েতপুর কাপড় বিক্রেতা আহসান হাবীব, জহির শেখ ও জামাল উদ্দিন জানান, হাটের মধ্যে দলীয় কার্যালয় হওয়ায় বেচাবিক্রির সুষ্ঠ পরিবেশ নেই। নিরাপত্তা ও হাটের উন্নয়নে শেড, ড্রেন নির্মান সহ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে ব্যবস্থা নিশ্চিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি করছি।

 

এদিকে জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর এনায়েতপুর হাটের জায়গা উদ্ধারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর তিনবার আবেদন করেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না দাবি করে ইজারাদার আনিসুর রহমান অভিযোগ করে জানান, আওয়ামী লীগের অফিস এখনো বিদ্যমান থাকায় খুনি হাসিনার দোসরদের আনাগোনা রয়েছে। এতে হাটের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিক্রেতা ও ব্যাপারিগণ আসছে না, এ কারণে সঠিকভাবে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না, চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

 

আনিসুর রহমান আরও অভিযোগ করে বলেন, এনায়েতপুর থেকে পাঁচিল আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারের সুযোগে বিভিন্ন জায়গা আবার নতুন করে একশ্রেণীর প্রভাবশালীরা হাটের জায়গা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয় সহ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলমুক্ত করার দাবী জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এনায়েতপুর কাপড়ের হাটের সরকারি জমি দখল করে নির্মিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

এনায়েতপুর কাপড়ের হাটের সরকারি জমি দখল করে নির্মিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দ্বারা হাটের দুই তৃতীয়াংশ ভূমি দখল করে নির্মিত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য দীর্ঘদিন যাবত দাবি করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।

 

এ নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর বহু আবেদন নিবেদন করা হয়েছে এবং সর্বশেষ মঙ্গলবার আবেদন করেছেন এনায়েতপুর হাটের ইজারাদার আনিছুর রহমান।

 

জানা যায়, তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুর থানা সদরে ৩১.৩৮ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত এনায়েতপুর হাট। যমুনার চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি ও গবাদি পশু এবং কাপড় সহ তাঁত শিল্পের সকল উপকরণ এ হাটে বেচাকেনা হয়।

 

এখানে প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক হাটবার। এছাড়া রোববার ও বুধবার দেশের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাট বসে যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সহ ভারতের ক্রেতারাও আসতো।

 

তবে এই হাট ধ্বংস করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ভূমি দখল করে আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে এনায়েতপুর থানার সামনে হাটের প্রাণকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় নির্মান করা হয়। এছাড়া আ’লীগের প্রভাবশালী দলীয় নেতারা নামে বেনামে অবৈধ ভাবে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এতে হাটের পেরিফেরিভুক্ত ভূমির মধ্যে প্রায় ২১.৩৮ একর হাটের জায়গা অবৈধ ভাবে দখলে নেয় তারা। অনেকেই জাল দলিল সৃজন করে নিজেদের নামে জমি নামজারি করে নিয়েছে।

 

একারনে ঐতিহ্যবাহী এনায়েতপুর হাটের বেচা-বিক্রি, ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। হাটে ক্রেতা এবং বিক্রেতার সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে। ধ্বংসের পথে চলে হাটটি ।

 

এনায়েতপুর কাপড় বিক্রেতা আহসান হাবীব, জহির শেখ ও জামাল উদ্দিন জানান, হাটের মধ্যে দলীয় কার্যালয় হওয়ায় বেচাবিক্রির সুষ্ঠ পরিবেশ নেই। নিরাপত্তা ও হাটের উন্নয়নে শেড, ড্রেন নির্মান সহ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে ব্যবস্থা নিশ্চিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি করছি।

 

এদিকে জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর এনায়েতপুর হাটের জায়গা উদ্ধারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর তিনবার আবেদন করেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না দাবি করে ইজারাদার আনিসুর রহমান অভিযোগ করে জানান, আওয়ামী লীগের অফিস এখনো বিদ্যমান থাকায় খুনি হাসিনার দোসরদের আনাগোনা রয়েছে। এতে হাটের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিক্রেতা ও ব্যাপারিগণ আসছে না, এ কারণে সঠিকভাবে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না, চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

 

আনিসুর রহমান আরও অভিযোগ করে বলেন, এনায়েতপুর থেকে পাঁচিল আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারের সুযোগে বিভিন্ন জায়গা আবার নতুন করে একশ্রেণীর প্রভাবশালীরা হাটের জায়গা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয় সহ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলমুক্ত করার দাবী জানান তিনি।