সরকারি বাসাভাড়া নিলেও শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের বসবাসের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৪২ বার পড়া হয়েছে
নিয়মিত সরকারি বাড়িভাড়া গ্রহণ করলেও সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের একটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজের ২১১ নম্বর কক্ষের এক কোণে রাখা স্টিলের র্যাকে সাজানো রয়েছে শার্ট, প্যান্ট ও লুঙ্গি। একটু দূরে রয়েছে চার-পাঁচটি চেয়ার ও একটি টেবিল। টেবিলের ওপর পানির বোতল, খাবারের বাটিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। পাশেই রাখা বড় একটি খাট, যার ওপর রয়েছে দুটি বালিশ। সব মিলিয়ে কক্ষটির পরিবেশ দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক, এটি কোনো শ্রেণিকক্ষ নয়, বরং একটি শোবার ঘর।
শিক্ষার্থী ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম কক্ষটি ব্যবহার করেন। শ্রেণিকক্ষ এভাবে ব্যবহারের ঘটনায় কলেজের একাধিক শিক্ষকের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন। তিনি একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। শুধু তা-ই নয়, তিনি আগে বিভিন্ন কলেজে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতো একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের কাছ থেকে তারা আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন।
আরেক শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষ অনেক জ্যেষ্ঠ একজন শিক্ষক। তিনি আগে অন্য কলেজেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তার এই কর্মকাণ্ড তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। সরকারি বাসাভাড়ার সুবিধা পাওয়ার পরও শ্রেণিকক্ষে খাট, চেয়ার-টেবিল রেখে সেটি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের বিষয়টি সবার কাছেই দৃষ্টিকটু।
তবে শ্রেণিকক্ষে বসবাসের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, কক্ষটিতে তিনি রাত্রিযাপন করেন না। মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সেখানে এসব জিনিস রাখা হয়েছে। তার দাবি, কলেজে মৌখিক পরীক্ষা নিতে আসা অতিথি শিক্ষকদের থাকার জন্য কক্ষটি প্রস্তুত করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপাশা হোসাইন বলেন, শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে শোবার ঘর বানিয়ে বসবাস করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















