জেল-জরিমানাতেও থামছে না তাড়াশে মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য, হুমকিতে ফসলি জমি
- আপডেট সময় : ০৯:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ৭০৪ বার পড়া হয়েছে
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) অবাধে কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের অভিযান, জেল-জরিমানা—কিছুই যেন কাজে আসছে না। রাতের অন্ধকারে এক শ্রেণির অসাধু চক্র স্কেভেটর (মাটি খননযন্ত্র) দিয়ে জমির মাটি কেটে ডাম্পার (মিনি ট্রাক) দিয়ে ইটভাটায় সরবরাহ করছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড চালালেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও তা উপেক্ষা করছে মাটি ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে খালকুলা ও মহিষলুটি মহাসড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত নির্বিচারে ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। বাঁশবাড়িয়া এলাকার উত্তর পাশে শত শত ডাম্পার মাটি ইটভাটায় বহন করছে। জমির মালিকদের প্রলোভন দেখিয়ে ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, ফলে জমি ধীরে ধীরে ডোবায় পরিণত হচ্ছে।
জানা গেছে, পাশের উল্লাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত একাধিক ইটভাটায় প্রতিদিন তাড়াশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কাজে দালাল চক্র কৃষকদের নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে জমির মাটি বিক্রিতে উদ্বুদ্ধ করছে। ফলে অনেক কৃষক তাৎক্ষণিক লাভের আশায় জমির উর্বরতা নষ্ট করে দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর শত শত একর আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। নওগাঁ ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া, মহিষলুটি, সান্তান ও ভায়াট এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমি কেটে ডোবা তৈরি, ভিটা ভরাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। কেউ কেউ পুকুর খননের অনুমতি নিয়ে সেই সুযোগে মাটি বিক্রি করছেন।
গত ২৩ এপ্রিল সোলাপাড়া এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসান আহম্মেদ খান অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার অপরাধে চারজনকে কারাদণ্ড দেন এবং মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর আওতায় ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, কিছু এলাকায় অভিযান পরিচালিত হলেও অধিকাংশ স্থানে প্রকাশ্যে মাটি কাটা চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিদিন গ্রামীণ সড়কে ভারী মাটিবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, ফলে জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি জমির মালিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান ইউএনও।












