যমুনা রেলসেতুর পিলারে চুলাকৃতি ফাটল, কর্তৃপক্ষের দাবি গরমের প্রভাব
- আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / ৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
যমুনা রেলসেতুর কিছু পিলারে চুলাকৃতি ফাটল দেখা যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নির্মাণে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নানা মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি গুজব বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, এটি আসলে ‘হেয়ার ক্র্যাক’ বা ক্ষুদ্র চুলাকৃতি ফাঁকা, যা প্রচণ্ড গরম ও আবহাওয়ার প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে যমুনা রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী নাইমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “সেতুর পশ্চিম প্রান্তের প্রায় আট থেকে দশটি পিলারের নিচের অংশে কিছু স্থানে চুলাকৃতি ফাঁকা দেখা গেছে। এসব জায়গা ঘষে রেজিন বা আঠার প্রলেপ দিয়ে মেরামতের কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো গঠনগত ত্রুটি নয়, আবার ‘হানিকম্ব’ও নয়। প্রচণ্ড তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে সৃষ্ট ০.১ থেকে ০.৩ মিলিমিটার আকৃতির চুলাকৃতি ফাঁকা মোটেও সেতুর স্থায়িত্ব বা নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলবে না। ফলে ট্রেন চলাচলেও কোনো ঝুঁকি নেই।”
প্রকৌশলী নাইমুল হক অভিযোগ করেন, “ফেসবুকে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ফাটলগুলো বড় করে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে যমুনা রেলসেতুর পিলারে ফাটলের কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি বছরের ১৮ মার্চ যমুনা রেলসেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। সিরাজগঞ্জের ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন এলাকায় পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের রেল যোগাযোগে নতুন যুগের সূচনা হয়।
১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুর ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থায়ন করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), আর বাকি অর্থ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সেতুটি নির্মাণ করেছে জাপানের ওটিজি ও আইএইচআই যৌথভাবে।
২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০২১ সালের মার্চে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়।
৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা রেলসেতু বর্তমানে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ ডাবল ট্র্যাক ডুয়েল গেজ রেলসেতু, যা দেশের রেল যোগাযোগে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।












